প্রাকৃতিক উপায়ে শরীরের ওজন কমানোর সহজ উপায়

সুপ্রিয় পাঠক বন্ধুরা আপনারা কি আপনাদের ওজন কমাতে চান? আপনারা কি ওজন কমানোর উপায় খুঁজছেন? তাহলে বন্ধুরা আমার লেখা এই ব্লগ টি আপনাদের জন্যই। বন্ধুরা বেশি কোন কিছুই যেমন ভালো না তেমনি শরীরে অতিরিক্ত ওজন অনেক সময় বিপজ্জনক হয়ে পড়ে। অনেক বন্ধুরা হয়তো শরীরের ওজন কমানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেছেন, কিন্তু ভালো কোন ফলাফল পাননি। অনেকে আবার ওজন কমানোর জন্য না খেয়ে থাকেন অথবা থাকছেন।

আপনারা যেমনটা মনে করছেন যে না খেয়ে থাকলে শরীরের ওজন কমবে, তেমনি না খেয়ে থাকলে আপনাদের শরীরের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হতে পারে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকারী উপায় হল নিয়মিত ডায়েট মেনে আস্তে আস্তে ওজন কমিয়ে ফেলা। এর মাধ্যমে আপনারা খুব সহজেই আপনাদের ওজন আস্তে আস্তে কমিয়ে ফেলতে পারেন। এর জন্য আপনাদের কে না খেয়ে থাকতে হবে না, শুধু আপনাদের খাদ্যের তালিকা টা পরিবর্তন করতে হবে এবং নিয়মমাফিক ব্যায়াম করতে হবে। এর চেয়ে কার্যকারী উপায় আর হতে পারে না।

ওজন কমাতে যা করবেনঃ

পাঠক বন্ধুরা আমাদের আজকের এই ব্লগে আপনারা জানতে পারবেন আপনাদের ওজন কতটুকু আছে, কতটুকু কমাতে হবে, খাদ্য তালিকা কি কি রাখতে হবে, কোন ধরনের নিয়ম ফলো করতে হবে,এবং ওজন কমানোর জন্য যত ধরনের টিপস আছে তার অনেকটা শেয়ার করার চেষ্টা করবো। এর জন্য আপনাদেরকে কিছুটা সময় নিয়ে আমাদের সম্পূর্ণ ব্লগটি মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে।
শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমানোর উপায়

কিভাবে আপনাদের শরীরের বিএমআই (BMI) বের করবেনঃ

বিএমআই বা Body Mass Index(BMI) হলো আপনাদের দেহের ওজন এবং দৈর্ঘ্য বা উচ্চতার বর্গের অনুপাত। বিএমআই এর মাধ্যমে জানা যায় আপনাদের দেহের ওজন স্বাভাবিক, কম, বেশি ইত্যাদি। এবং এটা নির্ণয়ের পড়ে বলা যেতে পারে আপনারা কোন পর্যায়ে আছেন এবং আপনাদেরর করণীয় কি কি।

বন্ধুরা বিএমআই নির্ণয় সূত্র- (BMI) = দেহের ওজন (কেজি) / দেহের উচ্চতা (মিটার)২

এই সূত্র অনুযায়ী আপনারা আপনাদের হিসাবটা আগে করে নেন। বিএমআই- বিভিন্ন জনের বিভিন্ন রকম হতে পারে। যদি আপনাদের বিএমআই ১৮.৫ পর্যন্ত হয় অথবা তার নিচে হয় তাহলে আপনাদের ওজনহীনতা আছে, আপনাদের বিএমআই যদি (১৮-২৪.৯) পর্যন্ত হয় তাহলে আপনাদের ওজন স্বাভাবিক আছে, আপনাদের বিএমআই যদি (২৫-২৯.৯) পর্যন্ত হয় তাহলে আপনাদের ওজন অতিরিক্ত বলে গণ্য হবে এবং আপনাদের ওজন যদি (৩০-৩৪.৯) পর্যন্ত তাহলে আপনাদের ওজন প্রতি অতিরিক্ত বলে বিবেচনা করা হয়।

বন্ধুরা এই বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে নিচের টেবিলটি ফলো করতে পারেন-

বিএমআইঃ শ্রেণীঃ
১৮.৫ ওজনহীনতা
১৮.৫ – ২৪.৯ স্বাভাবিক ওজন
২৫ – ২৯.৯ অতিরিক্ত ওজন
৩০ – ৩৪.৯ অতি অতিরিক্ত ওজন

বিভিন্ন গবেষণায় জানা গেছে, যে স্বাস্থ্যগত নানা জটিলতার সাথে ওজনের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। আপনাদের যাদের ওজন বেশি মানে অতিরিক্ত ওজনের ভুগতেছেন তাদের অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে যা কিনা আবার মহিলাদের ক্ষেত্রে প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। সেইসাথে যদি আবার কারন থাকে তাহলে তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সবচেয়ে কম বলে বিবেচনা করা হয়। এই সব সমস্যার সমাধান এর জন্য আগে আপনাদের ওজন মাপতে হবে বিএমআই এর মাধ্যমে। আমাদের অস্বাভাবিক সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে। তাই বলা যায় ওজন কমানোর উপায় জানতে প্রথম ধাপে বিএমআই চেক করে নেবেন।

প্রাকৃতিক উপায়ে ওজন কমানোর উপায়

বন্ধুরা মদ্যপান মানসিক চাপ অতিরিক্ত ঘুম ও নানান ধরনের অজন বারানোর ঔষধ খাওয়ার ফলে শরীরের ওজন বাড়তে পারে। অনেকের এই বাড়তি ওজন কি নিয়ে বহু সমস্যায় পড়ে। এই বাড়তি ওজনের জন্য হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাছাড়া রক্তনালীতে চর্বি জমার কারণে নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে। ভুঁড়ি বেড়ে যাওয়ার কারণে ডায়াবেটিসের দেখা দেয়। সবচেয়ে বড় কথা হলো ক্যান্সারের ঝুঁকি ৫ শতাংশ বেড়ে যায়। এইগুলা থেকে বাঁচতে আগে থেকেই বিএমআই চেক করে নেওয়া অনেক ভালো। এবং কিছুদিন পরপর বিএমআই চেক করা আপনাদের সতর্কতা মূলক কাজ।

অতিরিক্ত ওজন বাড়ার কারণঃ

বন্ধুরা আমাদের আগে থেকে সতর্ক হওয়ার জন্য ওজন কমানোর উপায় বার করার চেয়ে ওজন কেন বাড়ে সেই বিষয়টা জানা অন্তত জরুরী। এই কারণগুলি যদি আপনারা আগেই জানতে পারেন তাহলে আপনাদের অতিরিক্ত ওজন বাড়ার মহা বিপদ থেকে রক্ষা পেতে পারেন। অথবা, যাদের ওজন এখনো বাড়েনি স্বাভাবিক অবস্থায় আছে তাদেরকে সতর্ক করতে পারেন। আর কারণ জানাটা হচ্ছে ওজন কমানোর সবচেয়ে বড় উপায়। বিভিন্ন কারণে যেমন- অতিরিক্ত খাবার খাওয়া, বিভিন্ন ধরনের ওষুধ খাওয়া, ব্যায়াম না করা ইত্যাদি কারণে এই সমস্যাটি দেখা দেয়। আগে থেকেই ওজন কমানোর উপায় বা কারণগুলো জেনে নেই-

অতিরিক্ত খাবার খাওয়া

পাঠক বন্ধুরা আমাদের মধ্যে অনেকেরই খাবার খাওয়া একটা প্রেসার মত হয়ে গেছে। বিশেষ করে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার ফলে আমাদের ওজন বৃদ্ধি পায়। আবার অনেকে দেখা যায় টিভি দেখার সময় যেকোনো ধরনের খাবার খেতে থাকে। আসলে টিভি দেখার সময় আমাদের মনোযোগ খাবারের দিকে থাকে না। তখন আমরা শুধু খাবারের সাদটুকু অনুভব করতে পারি যার জন্য মনোযোগ অন্যদিকে থাকার কারণে আমরা যতটুকু খাবার খাওয়া দরকার তার চেয়ে অতিরিক্ত খেয়ে ফেলি। যা কিনা আমাদের বিপদ হয়ে দাঁড়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *