বাংলা ফন্ট – অতীত ও বর্তমান এবং ইতিহাস | Bangla Font

দৈনন্দিন লেখালেখি থেকে শুরু করে নানা কাজে আমরা বাংলা ফন্ট ব্যবহার করে থাকি। ফন্ট ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলা ভাষার লিখিত রূপের বিকাশ ঘটানো হয়। কলমের সাহায্যে যেমনি ভাবে মনের ভাব লেখনীরূপে প্রকাশ করা যায়। অনুরূপ ফন্ট ব্যবহারের মাধ্যমেও মনের ভাব লেখনী রূপে প্রকাশ করা যায়। পার্থক্য হচ্ছে, কাগজে লিখতে কলম-কালির প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে কম্পিউটার, মোবাইল ফোনে কোনো কিছু টাইপ করত প্রয়োজন হয় ফন্টের। যেহেতু আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। তাই বাংলা লিখতে আমরা বাংলা ফন্ট ব্যবহার করে থাকি। আজকে বাংলা ফন্টের ইতিহাস, অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং বাংলা ফন্ট কিভাবে তৈরি করা হয় এ বিষয়ে আলোচনা করব।

বাংলা ফন্ট
বাংলা ফন্টের ইতিহাস

বাংলা ফন্ট তৈরির ইতিহাস

বাংলা ফন্টের যাত্রা শুরু হয় ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হলহেডের ব্যাকরণ বইয়ের মাধ্যমে। উইলকিনস নামক একজন ইংরেজ বাংলা অক্ষরের ডিজাইন তৈরি করেন এবং পঞ্চানন কর্মকার নামক এক বাঙ্গাল ছেনি কেটে সিসা দিয়ে বাংলা হরফ তৈরি করেন। এ কাজটি মোটেও সহজ ছিল না। আজকের আধুনিক বাংলা ফন্টের যাত্রা এখান থেকেই আরম্ভ হয়। বর্তমানে প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি হচ্ছে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন বাংলা ফন্ট। গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ফন্ট ফাউন্ড্রি। বাংলা ফন্টের সৌন্দর্য বর্ধন এবং সৃজনশীল ফন্টের অভাবনীয় চাহিদা মোচনে একযুগে কাজ করে যাচ্ছে দেশীয় ফাউন্ড্রিগুলো। যার ফলে ক্রমবর্ধমান বিকশিত হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন সকল বাংলা ফন্ট। ভবিষ্যতে ভাষা লিপির অগ্রগতিতে বাংলা ফন্টগুলো যতেষ্ট ভূমিকা রাখবে বলে মনে করি।

সকল ফন্ট ডাউনলোড করুন

Bangla Logo Design
বাংলা ফন্ট দিয়ে তৈরি লোগো ডিজাইন।

কিভাবে বাংলা ফন্ট তৈরি করা হয়

প্রযুক্তির উন্নতির পাশাপাশি বাংলা ফন্ট তৈরি কাজটি অনেকটা সহজ হয়ে যায়। বাংলা ফন্ট ডিজাইনারগণ কম্পিউটারে Adobe Illustrator এর মাধ্যমে বাংলা বর্ণের পূর্ণাঙ্গ টাইপফেস ডিজাইন করে থাকেন। টাইপফেস ডিজাইনারগন ৩৫০ টির অধিক বর্ণ, যুক্তবর্ণ, সংখ্যা, সিম্বল ইত্যাদি ডিজাইন করে থাকেন। প্রতিটি বর্ণের জন্য আলাদা ডিজাইন তৈরি করে থাকেন। এভাবে বাংলা বর্ণের পূর্ণাঙ্গ টাইপফেস ডিজাইন করে থাকেন। অতঃপর Fontlab বা Fontcreator সফ্টওয়্যারের মাধ্যমে টাইপফেস ডিজাইনকে বাংলা ফন্টে রূপান্তরিত করেন। টাইপফেস ডিজাইনকে ফন্টে রূপান্তর করতে বেশ কয়েকটি মাধ্যম পার করতে হয়। প্রথমত, প্রতিটি বর্ণের জন্য নির্ধারিত গ্লিফে বর্ণের ডিজাইনগুলো বসাতে হয়। অতঃপর প্রতিটি বর্ণের মাঝে দূরত্ব নির্ধারণ করতে হয়। এরপর ওপেন টাইপ ফিচার যুক্ত করতে হয়। এভাবেই পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ফন্ট তৈরি করা হয়। এ কাজে ডিজাইনার এবং ডেভেলপার উভয়কেই স্বীয় দক্ষতার পরিচয় দিতে হয়।

বাংলা ফন্ট সম্পর্কে জানা অজানা তথ্য

  • সর্বপ্রথম কালার বাংলা ফন্ট তৈরি করেন এস. রাসেল।
  • বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ মিলিয়ে সর্বমোট মাত্রাহীন বর্ণ সংখ্যা ১০টি।
  • সর্বোচ্চ ওয়েট সম্পন্ন বাংলা ফন্টের নাম নোটো শেরিফ বাংলা।
  • ANSI এর পূর্ণরূপ হচ্ছে American National Standards Institute
  • প্রথম যন্ত্রে বাংলা লিপির ব্যবহার করেন ন্যাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
  • বাংলা ফন্ট জগতে প্রথম মহিলা ডিজাইনার মুন্নিশা হোসাইন
  • কোডপত্র বাংলা ফন্ট জগতে আন্সি এবং ইউনিকোড এর পর নতুন “বর্ণ” এনকোডিং নিয়ে আসে।

বাংলা ফন্ট ডাউনলোড করব কিভাবে?

বাংলা ফন্টগুলো বিভিন্ন ফাউন্ড্রিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তবে, এ তালিকা যে সকল ফাউন্ড্রির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সেখান থেকে উল্লেখযোগ্য এবং নিত্য দিনের কাজে প্রয়োজনীয় ফন্টগুলো ডাউনলোড করতে পারবেন। এ সকল ফাউন্ড্রিতে প্রতিনিয়তই প্রকাশিত হচ্ছে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন বাংলা ফন্ট। বাংলা ফন্টের মানোন্নয়োনে একযুগে কাজ করে হচ্ছে।

সকল বাংলা ফন্টকে একটি তালিকায় একত্রিত করার জন্য লিপিপত্র থেকে বাংলা ফন্টের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। সকল বাংলা ফন্টকে তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। সেখান থেকেও বাংলা ফন্ট ডাউনলোড করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.