সূরা মুলক এর ফজিলত

সূরা মুলক এর ফজিলত ও আমল – Surah Al-Mulk

সূরা মুলক এর ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। সূরা মুলক কুরআনুল কারীমের ঊনত্রিশ নাম্বার পাড়ার প্রথম সূরা। সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়। এতে রয়েছে ৩০ টি আয়াত, ৩৩৫টি বাক্য এবং ১৩১৩টি অক্ষর। সূরা ক্রম অনুসারে এটি কুরআনুল কারীমের ৬৭ নাম্বার সূরা।

সূরা মুলক এর বেশ কয়েকটি নাম ও ফজিলত রয়েছে। এ জন্য এ সূরাটিকে সূরা তাবারাকা, সূরা মুনজিয়াহ, সূরা মায়েনা ও বলা হয়। সূরা তাবারকা নামকরণের কারণ হচ্ছে, এর পাঠক অশেষ কল্যাণ ও বরকত লাভ করে। মুনজিয়াহ নামে নামকরণের কারণ হচ্ছে: এর পাঠককে করবের আজাব থেকে পরিত্রাণ দেওয়া হয়। আর মানেয়া নামে নামকরণের কারণ হচ্ছে: এই সূরাটি তার পাঠককে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করে এবং বাধা দিয়ে থাকে।

সূরা মুলক এর ফজিলত
সূরা মুলক এর ফজিলত

সূরা মুলক এর ফজিলত

সূরা মুলকের অনেকগুলো ফজিলত রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বেশ কয়েকটি ফজিলত বর্ণনা করব। সূরা মুলক এর ফজিলত এর মধ্য থেকে প্রথম ফজিলতটি হচ্ছে, এটি তার পাঠকের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে সুপারিশ করতে থাকবে, যতক্ষণ না এর পাঠককে ক্ষমা করে দেওয়া হয়।

আল্লাহ তায়ালার কালাম যদি কোনো বান্দার সম্পর্কে তাঁর কাছে সুপারিশ করে। তাহলে আশা করা যায় আল্লাহ তায়ালা তার অনুগ্রহের সে বান্দাকে ক্ষমা করে দিবেন। আর সূরা মুলক এমন একটি সূরা, যা তার পাঠকের জন্য মাগফিরাতের সুপারিশ করবে।

জাহান্নাম থেকে মুক্তি

হাদিসে বর্ণিত রয়েছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

إِنّ سُورَةً مِنَ القُرْآنِ ثَلَاثُونَ آيَةً شَفَعَتْ لِرَجُلٍ حَتّى غُفِرَ لَهُ، وَهِيَ سُورَةُ تَبَارَكَ الّذِي بِيَدِهِ المُلْكُ.

قال الترمذي: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ.

অনুবাদ: নিশ্চয় কুরআনে ত্রিশ আয়াত বিশিষ্ট একটি সূরা রয়েছে। যা এক ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করেছে। তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। আর তা হচ্ছে তাবারাকাল্লাযী…. অর্থাৎ সূরা মূলক। -জামে তিরমিযী, হাদীস ২৮৯১; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ৩৭৮৬

মুসতাদরাকে হাকেমে এসেছে এ ভাষায় – 

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنّ رَسُولَ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ، قَالَ: إِنّ سُورَةً مِنْ كِتَابِ اللهِ عَزّ وَجَلّ مَا هِيَ إِلّا ثَلَاثُونَ آيَةً شَفَعَتْ لِرَجُلٍ فَأَخْرَجَتْهُ مِنَ النّارِ وَأَدْخَلَتْهُ الْجَنّةَ.

قال الحاكم: هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحُ الْإِسْنَادِ وَلَمْ يُخَرِّجَاهُ، وَقَدْ سَقَطَ لِي فِي سَمَاعِي هَذَا الْحَرْفُ وَهِيَ سُورَةُ الْمُلْكِ.

হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

আল্লাহর কিতাবে ত্রিশ আয়াত বিশিষ্ট এমন একটি সূরা রয়েছে, যা এক ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করে জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে নিয়ে আসা পর্যন্ত। – মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ৩৮৩৮

আরো পড়ুন: আছরের নামাজ কত রাকাত ও কিভাবে পড়তে হয়

আমলকারীর পক্ষে ওকালতি

সূরা মুলক এর ফজিলত সমূহের জন্য হতে অন্যতম হচ্ছে সূরা মূলকের উপরে আমলকারীর পক্ষ থেকে এটি ওকালতি করে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। এর উপর আমলকারী ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ না করানো পর্যন্ত ঝগড়া করবে।

এ প্রসঙ্গে হযরত আনাস রা’ থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

سُورَةٌ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هِيَ إِلّا ثَلَاثُونَ آيَةً، خَاصَمَتْ عَنْ صَاحِبِهَا حَتّى أَدْخَلَتْهُ الْجَنّةَ، وَهِيَ سُورَةُ تَبَارَكَ.

অনুবাদ: কুরআনুল কারীমে ত্রিশ আয়াত বিশিষ্ট একটি সূরা রয়েছে, যা তার আমলকারী সম্পর্কে ঝগড়া করবে এমনকি আমলকারীকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। আর তা হল সূরাতুত তাবারাকা অর্থাৎ, সূরা মূলক। -আলমুজামুল আওসাত, তবারানী, হাদীস ৩৬৫৪; 

কবরের আজাব থেকে মুক্তি

কবরের আজাব অত্যন্ত কঠিন ও ভয়াবহ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজাব হতে আল্লাহর কাছে পানাহ চাইতেন। কবরের আজাব থেকে যাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ধাপগুলো অতিক্রম করে আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে জান্নাত প্রবেশ করা তার জন্য সহজ। এক মাত্র মানুষ কবরের আজাব শূনতে পায় না। মানুষ ব্যতীত অন্যান্য সৃষ্টি জীব করবের আজাব শুনতে পায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মানুষ দাফন করতে ভয় পাবে, নইলে আমি আল্লাহর নিকট আবেদন করতাম, তিনি যেন মানুষকে কবরের আজাব শোনান।

আরো পড়ুন: ৩০+ ইসলামিক পোস্ট ও ইসলামিক পিকচার ডাউনলোড করুন

সূরা মূলক এর ফজিলত সমূহের মধ্য থেকে অন্যতম ফজিলত হচ্ছে এ সূরাটি তার উপর আমলকারীর জন্য কবরের আজাব থেকে প্রতিবন্ধক হবে। এ প্রসঙ্গে বহু হাদিস বর্ণিত রয়েছে।

হযরত ইবনে মাসউদ রা’ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন মৃত ব্যক্তিকে কবরে শায়িত করা হয় তখন তার পা যুগলের দিক থেকে আজাবের ফেরেশতা আসতে শুরু করে। তখন মৃত ব্যক্তির পা দু’খানি ফেরেশতাদেরকে লক্ষ্য করে বলবে, এ ব্যক্তির নিকটে তোমাদের আসার সুযোগ নেই। কেননা সে সূরা মুলক সর্বদা তেলাওয়াত করত। অতঃপর মাথার দিক থেকে পুনরায় আজাবের ফেরেশতা আসতে শুরু করবে। তখন মৃত ব্যক্তির মুখ (ফেরেশতাদেরকে লক্ষ্য করে) বলবে, এ ব্যাকটির নিকট তোমাদের আগমনের কোনো পন্থা নেই। কেননা সে আমার মাধ্যমে সূরা মুলক তেলাওয়াত করত।

অতঃপর তিনি বললেন, এটা আল্লাহর আজাবকে ফিরিয়ে দেয়। তাওরাত কিতাবেও এটা সূরা মুলক নামে পরিচিত ছিল। যে ব্যক্তি রাত্রিকালে তা তেলাওয়াত করবে সে ব্যক্তি অত্যধিক নেক কাজ করল এবং তার নেক আমলনামাকে দীর্ঘ করল। এটি সূরা মুলক এর ফজিলত সমূহের মধ্য হতে অন্যতম।


সূরা মুলক এর ফজিলত সহ অন্যান্য ইসলামিক বিষয় জানতে ভিজিট করুন আলকাউসার.কম


আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সূরা মুলক এর ফজিলত বুঝার এবং এর উপর আমল করার তৌফিক দান করুন। দৈনিক অন্তত একবার আমল করার তওফিক দান করুন। আমিন।

Leave a Comment

Your email address will not be published.