গ্যাস্ট্রিক বুকে ব্যাথা দূর করার উপায়। এসিডিটি দূর করার উপায়

গ্যাস্ট্রিক কিছু খেতে পারি না! কোথাও ভালোমতো থাকতে পারিনা! প্রচুর জ্বালাপোড়া করে! এরকম সমস্যা আমরা হয়তো সবাই পড়েছি। আর যারা পড়েনি তারা হয়তো ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন না। আর আমার মনে হয় অনেক ব্যক্তি এই সমস্যায় পড়েছে। অনেক ব্যাক্তি এই সমস্যাটি কি খুবই জটিল একটি সমস্যা মনে করে থাকে এবং খুব সচরাচর এই সমস্যায় তাদের মধ্যে দেখা যায়।

গ্যাস্ট্রিক রোগটি আমাদের কাছে প্রায় সবারই চেনা পরিচিত একটি রোগ। এ রোগের কথা আমরা প্রায়ই শুনে থাকি এবং আমরা নিজেরাই এ রোগের শিকার হয়ে থাকি। খুব সম্ভবত আমরা নিজেরাই আমাদের শরীরে এই রোগ বাধিয়ে ফেলি আমাদের কিছু অসচেতনতা এই রোগটিকে প্রশ্রয় দিতে সাহায্য করে।

এইতো কয়েকদিন আগে আমি একটি বিয়ে বাড়ি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম এবং দেখা গেল আমি আমার খাবার-দাবারের প্রতি একটু অসচেতন ছিলাম বিয়ে বাড়ি বলে কথা।

নিজের ইচ্ছা মত তেল যুক্ত খাবার আরও নানারকম খাবার খেয়েছিলাম খাবার খাওয়ার প্রতি আমার কোন জ্ঞানই ছিল না যে আমি কি খাচ্ছি আর কি না খাচ্ছি।

তো পরবর্তীতে বিয়ে শেষ করে এসে আমি আমার পেটে এই গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা অনুভব করতে শুরু করলাম তো এখানে স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে যে গ্যাস্ট্রিকের যে কারণগুলো রয়েছে তার মধ্যে আমরাই অনেকগুলো কারণ সৃষ্টি করে থাকি নিজের অসচেতনতা এবং অযত্নশীল খাবার আমাদের এই রোগে ফেলে দেয়।

তাহলে চলুন আরো কিছু কারণ জেনে নেই যে কারণে গ্যাস্ট্রিক হয়ে থাকেঃ

  • অধিক পরিমাণে খাবার খেলে আপনি গ্যাস্ট্রিকের জ্বালায় ভুগতে পারেন । অনেকেই দেখা যায় যারা খাবার সামনে পেলে নিজেদের সামলিয়ে রাখতে পারে না এবং প্রচুর পরিমাণে খেয়ে ফেলে পরবর্তীতে তারা এই সমস্যা পড়ে পড়ে যায়
  • ভাজাপোড়া খাওয়া। আমরা যখন রাস্তায় বের হই তখন কিন্তু নানা রকম দোকানপাট দেখতে পারি এবং সেখানে প্রতিনিয়ত নানারকম ভাজাপোড়া খাবার বিক্রি করা হয় আমাদের মুখের স্বাদের জন্য। সে খাবারগুলোতে নানা রকম ক্ষতিকারক বস্তু থাকে। মূলত ভাজা পড়ার কারণেই গ্যাস্ট্রিক হয়ে থাকে অর্থাৎ আমরা ভাজাপোড়া খাবার কে গ্যাস্ট্রিকের মূল কারণ হিসেবে বলতে পারি।
  • ধূমপান করলে আপনারা হয়তো দেখে থাকবেন আপনাদের বুকে জ্বালাপোড়া করছে আপনি যদি প্রতিনিয়ত বেশি পরিমাণে ধূমপান করে থাকেন তাহলে কিন্তু আপনি এই সমস্যায় ভুগতে পারেন।
  • নিয়ম করে না খেলে আপনারা এই সমস্যায় ভুগতে পারেন। আমাদের মাঝে অনেকে আছে যারা কোনো রকম নিয়ম-কানুন ছাড়াই যখন ইচ্ছা তখন খাই এই বিষয়টি আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। আমাদের একটি নির্দিষ্ট সময় তৈরি করতে হবে এবং সেই সময়ের মধ্যে আমাদের খাবার খেতে হবে আপনার যদি নির্দিষ্ট সময় খাবার না খান তাহলে কিন্তু আপনারা আপনাদের পাকস্থলীতে ক্ষতস্থান সৃষ্টি করে এমন রোগ ও জন্ম দিতে পারেন।
  • নানা রকম ব্যথার ঔষধ গ্রহণ করলে আমরা এই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভুগতে পারি আমাদের মাঝে অনেকে আছি যারা নানারকম ব্যথার ঔষধ খেয়ে থাকি এবং অনেকেই আছে যা যারা এই পরিমাণটা খুব বেশি করে ফেলে এবং পরবর্তীতে দেখা যায় তারা গ্যাস্ট্রিকের রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
  • অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন করলে আমরা এই সমস্যায় পড়তে পারি। অনেকে আছি যারা প্রতিনিয়ত নানারকম কারণে পশুর পরিমাণ করে থাকি এবং পরবর্তীতে দেখা যায় সৃষ্টি করে এবং ভালোমতো আমরা আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে পারি না
  • এই ছিল গ্যাস্ট্রিকে আক্রান্ত হওয়ার কারণ আমরা উপরের যে কারণগুলো নিয়ে আলোচনা করলাম সে কারণগুলো কিন্তু আমরা নিজেরাই সৃষ্টি করি এবং যার কারণে আমরা রোগে আক্রান্ত হই।
  • যদিও গ্যাস্ট্রিক কোন বড় ধরনের রোগ নয় তবুও আমাদের সবাইকে সাবধান থাকতে হবে। কেননা একটি ছোট রোগ কিন্তু অনেক সময় আমাদের শরীরে বসবাস করার পর সে রোগটি বড় ধরনের ক্ষতি করার সামর্থ্য রাখে। এজন্য আমাদের সচেতন থাকতে হবে এবং সর্বদা সব রোগ থেকে নিজেকে বাঁচাতে হবে।

এই রোগের লক্ষ্মণ গুলো

প্রতিটি রোগের নানা রকম লক্ষণ থেকে থাকে এরকমও এই ডেসটিক এর নানা রকম লক্ষণ আছে যেগুলো দেখলে আপনারা বুঝতে পারবেন আপনার গ্যাস্ট্রিক হয়েছে।

এ রোগের সব থেকে বেশি লক্ষণগুলো হলো বারবার বমি বমি ভাব হওয়া পেট জ্বালাপোড়া করা বদ হজম হওয়া ইত্যাদি।

আজকে আমরা যা আর্টিকেলটি নিয়ে আপনাদের সামনে এসেছি সেটি হল গ্যাস্ট্রিক বুকে ব্যাথা দূর করার উপায় এবং আজকে আমরা চেষ্টা করব গ্যাস্ট্রিকে বুকে ব্যথা দূর করার কয়েকটি ভালো উপায় নিয়ে যে উপায়গুলো মেনে চললে আপনারা খুব সহজে বুকের ব্যথা থেকে নিরাময় পাবেন।

গ্যাস্ট্রিক বুকে ব্যাথা দূর করার উপায়

গ্যাস্ট্রিক বুকে ব্যাথা দূর করার অনেকগুলো উপায় রয়েছে। তো এ উপায় গুলো যদি আপনারা মেনে চলেন তাহলে অবশ্যই এই রোগ থেকে নিরাময় পাবেন। আর্টিকেলটি শুরু করার সময় আমরা কয়েকটি কারণ নিয়ে আলোচনা করেছিলাম যেগুলো করলে আপনার গ্যাস্ট্রিক বা বুকে ব্যথা হয়। তো উপরে আমরা আপনাদের জন্য যে আলোচনাগুলো করেছিলাম সেগুলো আপনারা যদি না করেন অর্থাৎ গ্যাস্ট্রিক হয় এমন কাজ না করলে কিন্তু আপনার গ্যাস্ট্রিক থেকে মুক্তি পেয়ে যাচ্ছেন।

যেহেতু আমাদের অসচেতনতাই এই রোগের মূল লক্ষণ সেহেতু আমি বলব আপনাদেরকে খাবার-দাবারের বা প্রতি বেশি সচেতন হতে হবে।

এখন আপনার যদি সচেতন থাকা অবস্থায় এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে নিচে কয়েকটি ঘরোয়া পদ্ধতি দেখানো হলো যেগুলো মেনে আপনারা খুব সহজে গ্যাস্ট্রিক থেকে রক্ষা পেতে পারেন তাহলে চলুন কয়েকটি ঘরোয়া পদ্ধতি জেনে নেই যেগুলো গেস্টিক বা অ্যাসিডিটি দূর করতে আপনাদেরকে সহযোগিতা করবে।

১. আপনি যদি গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা অনুভূত করেন তাহলে যদি আপনার হাতের কাছে গুর থেকে থাকে তাহলে এক টুকরো গুড় মুখে দিয়ে না চিবিয়ে চুষে খান এতে করে দেখবেন আপনার গ্যাস্ট্রিকের ব্যাথা কিছুক্ষণের মধ্যে কম হয়ে যাচ্ছে।

২. অধিক তেল যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। যদি তেলযুক্ত খাবার খান খাবার খাওয়ার পরে টক দই খাবার চেষ্টা করুন এতে করে আপনার খাবার পাকস্থলীতে ভালোভাবে হজম হবে।

৩. অনেক সময় আমাদের দেখা যায় আমরা গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা অনুভব করলে অ্যান্টাসিডনামের যে ট্যাবলেটটি রয়েছে সেটি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন দরকার পড়লে আপনারা এই ট্যাবলেট টি না খেয়ে আদা চিবিয়ে খান।

৪. আপনার যদি পছন্দ পরিমাণে গ্যাস্ট্রিকের ব্যাথা অনুভূত হয় তাহলে আপনারা একটি প্রাচীনকালের পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন আমরা সবাই পুদিনা পাতা কে চিনি তো আপনারা চাইলে এই পুদিনা পাতার রস করে খেয়ে ফেলতে পারেন আপনার গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা কমে যাবে।

৫. উপরের পদ্ধতিগুলো ছাড়াও আপনারা লবঙ্গ চিবাতে পারেন এতে করে অনেক টা ব্যথা কমে যাবে।

এই ছিল আজকে আমাদের আর্টিকেল আশা করি আপনারা সবাই আমাদের আর্টিকেলটি সম্পূর্ণভাবে বুঝেছেন এবং উপকৃত হয়েছে তো আজকে এ পর্যন্ত দেখা হবে পরবর্তীতে নতুন কোন আর্টিকেল নেই সে পর্যন্ত ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন আমাদের এই ওয়েবসাইটটির সঙ্গেই থাকুন আল্লাহ হাফেজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.