ইমাম আবু হানিফা রহ. এর ফিকহী বোর্ডের চল্লিশজন সদস্য

বর্তমানে সারা বিশ্বে অধিকাংশ মুসলমান হানাফি মাজহাবের অনুসারী। কেননা হানাফি মাজহাব পালন করা অন্যান্য মাজহাবের পালনের চেয়ে অধিক সহজ। তাছাড়া, ইলমে ফিকহের মুদাওয়ীনে আওয়াল হলেন ইমাম আবু হানিফা (রহ.)। যিনি স্বীয় ইজতিহাদের ভিত্তিতে বিভিন্ন মাসআলার সমাধান এবং কুরআন ও হাদিস থেকে মাসআলা ইস্তিমবাত করার উসুল তৈরি করে গিয়েছেন। যে উসুলের ভিত্তিতে হানাফি মাজহাব পরিচালিত হয়।

ইমাম আবু হানিফা রহ
ইমাম আবু হানিফা রহ. এর ফিকহী বোর্ডের চল্লিশজন সদস্য

মাসআলার সমাধান ও উসুল তৈরির জন্য ইমাম আবু হানিফা রহ. এর ফিকহী বোর্ড ছিল। তাতে চল্লিশজন যুগ শ্রেষ্ঠ ফকিহ ছিলেন। যখন কোনো একটি মাসআলা তাদের সামনে আসত। তখন পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হত। যে মতটি দলিল প্রমাণের ভিত্তিতে অধিক শক্তিশালী মনে করা হত তার উপর রায় দেওয়া হত।

ইমাম আবু হানিফা রহ. এর ফিকহী বোর্ডের চল্লিশজন সদস্যের নাম নিন্মে উল্লেখ করা হল।

ইমাম আবু হানিফা রহ. এর ফিকহী বোর্ডের চল্লিশজন সদস্য

ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) ১৮২ হি.

ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) ১৮৯ হি.

ইমাম যুহার (রহ.) ১৫৮ হি.

ইমাম হাসান ইবনে যিয়াদ (রহ.) ২০৪ হি.

ইমাম মালেক ইবনে মিগওয়াল (রহ.) ১৫৯ হি.

ইমাম মালেক ইবনে নযীর (রহ.) ১৬০ হি.

ইমাম মিনদাল ইবনে আলী (রহ.) ১৬৮ হি.

ইমাম নযর ইবনে আব্দুল কারীম (রহ.) ১৬৯ হি.

ইমাম আমর ইবনে মায়মূন (রহ.) ১৭১ হি.

ইমাম হিব্বান ইবনে আলী (রহ.) ১৭২ হি.

ইমাম আবু ইসমা (রহ.) ১৭৩ হি.

ইমাম যুবাইর ইবনে মু’আবিয়া (রহ.) ১৭৩ হি.

ইমাম কাসিম ইবনে মা’আন (রহ.) ১৭৫ হি.

ইমাম হাম্মাদ ইবনে আবু হানিফা (রহ.) ১৭০ হি.

ইমাম সায়্যাজ ইবনে বিস্তাম (রহ.) ১৭৭ হি.

ইমাম শরীফ ইবনে আব্দুল্লাহ (রহ.) ১৭৮ হি.

ইমাম আফিয়া ইবনে ইয়াযীন (রহ.) ১৮০ হি.

ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রহ.) ১৮১ হি.

ইমাম মুহাম্মদ ইবনে নূহ (রহ.) ১৮৩ হি.

ইমাম হায়সাম ইবনে বশীর (রহ.) ১৮৩ হি.

ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়া (রহ.) ১৮৪ হি.

ইমাম ফুযাইল ইবনে ইয়ায (রহ.) ১৮৭ হি.

ইমাম আসাদ ইবনে উমর (রহ.) ১৮৮ হি.

ইমাম ইউসুফ ইবনে খালিদ (রহ.) ১৮৯ হি.

ইমাম আলী ইবনে মুসাহির (রহ.) ১৯১ হি.

ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনে ইদ্রিস (রহ.) ১৯২ হি.

ইমাম ফযল ইবনে মুসা (রহ.) ১৯২ হি.

ইমাম আলী ইবনে যিবয়ান (রহ.) ১৯২ হি.

ইমাম হাফস ইবনে গিয়াস (রহ.) ১৯৪ হি.

ইমাম হিশাম ইবনে ইউসুফ (রহ.) ১৯৭ হি.

ইমাম শু’আইব ইবনে ইসহাক (রহ.) ১৯৭ হি.

ইমাম ওকী ইবনে জাররাহ (রহ.) ১৯৮ হি.

ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ (রহ.) ১৯৮ হি.

ইমাম আবু হাফস ইবনে আব্দুর রহমান (রহ.) ১৯৯ হি.

ইমাম আবু মুতী’ বলখী (রহ.) ১৯৯ হি.

ইমাম খালিদ ইবনে সুলাইমান (রহ.) ১৯৯ হি.

ইমাম আব্দুল হামিদ (রহ.) ২০৩ হি.

ইমাম আবু আসিম নাবিল (রহ.) ২১২ হি.

ইমাম হাম্মাদ ইবনে দালিল (রহ.) ২১৫ হি.

ইমাম মক্কী ইবনে ইরবাহীম (রহ.) ২১৫ হি.

উনারা সকলেই ইমাম আবু হানিফা রহ. এর শিষ্য ছিলেন।


আরো পড়ুন: হাদিস সংকলনের ইতিহাস

সমসাময়িক ইস্যুতে ইস্যু’র সাথে থাকুন


ফিকহে হানাফির মাসায়েলের ভিত্তি সাতটি

১. কিতাবুল্লাহ: তথা কুরআন মাজীদ। এটি ইসলামী শরীয়তের প্রধান উৎস।

২. সুন্নতে রাসুল: তথা রাসুলে কারীম (সা.)-এর হাদিস। এটি ইসলামী শরীয়তের দ্বিতীয় উৎস।

৩. আকওয়ালে সাহাবা: তথা সাহাবায়ে কেরামের অভিমত ও ফতওয়া। এটি ফিকহে হানাফির তৃতীয় উৎস।

৪. ইজমা: তথা যে কোনো যুগে মুসলিম উম্মাহর মুজতাহিদগণের শরীয়তের নতুন কোনো হুকুমের ব্যাপারে ঐকমত পোষণ করা।

৫. কিয়াস: তথা কুরআন-হাদিসে সরাসরি উল্লেখ নেই, এমন বিষয়ের সমাধান কুরআন ও হাদিসের অন্য মৌলিক দলিলের আলোকে বের করা। আহলুস সুন্নাত ওয়ার জামা’আতের সকল ইমামগণ কিয়াসকে ইসলামী শরিয়তের উৎস হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

৬. ইস্তিহসান: তথা বিশেষ কোনো মাসআলার ক্ষেত্রে শক্তিশালী দলিলের ভিত্তিতে কিয়াসে জলি গ্রহণ করার পরিবর্তে কিয়াসে খফি গ্রহণ করাকে ইস্তিহসান বলে।

৭. উরফ: হানাফী ফিকহে ‘উরফ’ ইসলামী ফিকহের সহকারী উৎস হিসেবে স্বীকৃত। অর্থাৎ শরীয়তের মূল উৎস কুরআন-হাদিস, ইজমা-কিয়াস দ্বারা সমস্যার সমাধান না করা গেলে সেখানে ইস্তিহসান বা উরফ এর আলোকে মাসআলা সমাধান করা হয়।

উল্লেখ্য যে, ইমাম আবু হানিফা রহ. এর ফিকহী বোর্ডের চল্লিশজন সদস্যদের মধ্যে ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ সর্বাধিক প্রসিদ্ধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.